প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং
বন্দরে পুলিশের ছেলের ওপর হামলা, কুপিয়ে জখম, নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাই

নারায়ণগঞ্জ আপডেট ঃ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় ইট কিনতে গিয়ে এক নির্মম ও বর্বর হামলার শিকার হয়েছেন মো: নুর নাফিন (২৫) নামের এক যুবক। পূর্ব পরিচিত এক যুবকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং তার কাছে থাকা নগদ ৪০,০০০ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী যুবকের পরিবার ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত যুবক নূর নাফিনের পিতা মোঃ মামুন একজন পুলিশ কর্মকর্তা ।
প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ০৯ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকায় বন্দর থানার নবীগঞ্জ (বাগবাড়ি) এলাকার মামুন মিয়ার ছেলে মো: নুর নাফিন বাড়ি থেকে ইট কেনার উদ্দেশ্যে পদুঘর ইটখোলার দিকে রওনা হন। বিকেল আনুমানিক ৪:৫০ ঘটিকার সময় তিনি পদুঘর চন্ডিতলা মার্কেট সংলগ্ন ব্রিজের ওপর পৌঁছালে পূর্ব পরিচিত বিবাদী মাহাবুব (২৮), পিতা- খোকা কসাই, তার গতিবিধি রোধ করে।
মাহাবুব তাকে বলে, "টাকা আমার কাছে দে, আমি ভালো ইট কিনে দেব।"
নুর নাফিন উক্ত প্রস্তাবে রাজি না হয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করলে বিবাদী মাহাবুব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উপস্থিত অন্যান্য সহযোগীদের সামনে তিনি নুর নাফিনকে উল্টো 'ছিনতাইকারী' বলে মিথ্যা তকমা দিয়ে শোরগোল সৃষ্টি করেন।
মুহূর্তের মধ্যেই মাহাবুব ও তার সাথে থাকা আরও ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে নুর নাফিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাকে লক্ষ্য করে কোপাতে থাকে, যার ফলে নুর নাফিনের মাথা, কপাল, বাম পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তাক্ত ও গভীর জখম সৃষ্টি হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার সাথে থাকা নগদ ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা এবং দুটি মূল্যবান মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার কিছু সময় পর এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নুর নাফিনের পরিবারকে মোবাইলে কল করে জানান যে, তাকে চন্ডিতলা ব্রিজের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে নুর নাফিনের মা নাছিমা বেগম (৪৫), নানী হেলেনা বেগম এবং স্ত্রী সায়মা আক্তার বৃষ্টি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা আহত নাফিনকে উদ্ধার করতে গেলে বিবাদী মাহাবুব ও তার সহযোগীরা তাদের ওপরও চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পুরো পরিবারকে অবরুদ্ধ করে আটকে রাখে।
উপায়ান্তর না দেখে নুর নাফিনের মা নাছিমা বেগম জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯'-এ কল করে পুলিশের সাহায্য চান। খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরুদ্ধ পরিবারকে উদ্ধার করে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় রক্তাক্ত নুর নাফিনকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে कर्तव्यরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে রেফার করেন।
বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ছেলের চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকা এবং পারিবারিক আলোচনার কারণে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বন্দর থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নারায়ণগঞ্জ আপডেট