প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 23, 2025 ইং
মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়লেন কিং মেকার মোহাম্মদ আলী,

নারায়ণগঞ্জ আপডেট: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিএনপির অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশী চাইতে বেশি আলোচনায় ছিলেন, নারায়ণগঞ্জের কিং মেকার হিসেবে সর্বজন পরিচিত মোহাম্মদ আলী। ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্বাচনে তিনি এ এমপিত্বের স্বাদ বেশি দিন নিতে পারেন নি। মাত্র চার মাসের মাথায়ই তার এমপিত্ব চলে যায়। ফের নির্বাচন হলে এ আসনের সংসদ সদস্য হন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমান।
মোহাম্মদ একাধারে একজন রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি ও একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে। তিনি দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সাবেক সহ সভাপতি, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
১৯৯৬ সালের জুন মাসে তিনি শামীম ওসমানের কাছে হেরে যাওয়ার পর তাকে আর বিএনপিতে তেমন করে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়নি। তবে তার দপ্তরে প্রায় সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের আনোগোনা থাকতো প্রায় ১২ মাসই। পর্দার অন্তরালে থেকে তিনি প্রায় সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরই নিয়ন্ত্রণ করতেন। আর এ জন্যই তাকে বলা হতো, নারায়ণগঞ্জের কিং মেকার।
তবে ৫ আগস্টের পর সেই কিং মেকারই বিভিন্ন কারণে নতজানু হয়ে যায়। কারণ, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলের পুরোটা সময় তিনি ব্যয় করেছেন ওসমানদের সাথে। তাদের কথামতই চলতে দেখা গেছে তাকে। তারা যা বলতেন তিনি শুধু করে দেখাতেন। শুধু তাই নয়, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে যতগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে প্রায় সবগুলো নির্বাচনেই একজন বিএনপি নেতা হয়েও তিনি ওসমানদের তথা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন, বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। এক কথায় বলতে গেলে, তিনি বিএনপি নেতা হয়েও আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করেছেন।
ফলে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর কথা হয় মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে। তাকে ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমকি কিং মেকার মোহাম্মদ আলীর গ্রেফতারও দাবি করেন তারা। এমতাবস্তায় তাকে নিয়ে যখন বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক মিটিংয়ে বক্তব্য শেষে তিনি বলে উঠলেন, ‘জয় বাংলা।’ এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে চলমান ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তাকে নারায়ণগঞ্জে অবঞ্চিত ঘোষণাও করতে দেখা যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের। কিন্তু সেই ক্ষোভের আগুন বেশিদূর পর্যন্ত পৌছতে পারেনি। কোন এক রহস্যজনক কারণেই হঠাৎ করেই নিভে যায় সেই ক্ষোভে আগুন। ফলে একটু একটু ফের উত্থানের চেষ্টা করেন মোহাম্মদ আলী। বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা বাড়াতে থাকেন। এবং একটা সময় বিএনপির কিছু সুবিধাবাদি নেতারাও তার পক্ষে কথা বলা শুরু করেন।
সেই সুযোগে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরপর থেকে ফের আলোচনায় উঠে আসে মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে ফেরাবেন না বলেও জানান তিনি। তবে তার সহযোগীরা প্রায় শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় যদি একটি আসনও দেয়া হয়, তাহলে সেটা মোহাম্মদ আলীকেই দেয়া হবে।
কিন্তু তাদের সেইসমস্ত কথা আজ মিথ্যে প্রমাণিত হলো। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এ আসন থেকে জোটগতভাবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জেলা জমিয়েত উলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনির হোসেন কাসেমীর নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে দলীয় মনোনয়ন থেকে মোহাম্মদ আলী ছিঁটকে পড়ায় অনেকটাই খুশি হতে দেখা গেছে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। তারা বলছেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যে, কোন দোসরকে আমাদের প্রার্থী দেন নাই। কারণ, মোহাম্মদ আলী হলো একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্টদের দোসর। তাকে প্রার্থী দেয়া হলে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন হওয়ার একটা ঝুঁকি থাকতো। তিনি মূলত ওসমানদের নির্দেশেই প্রার্থী হওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন। তিনি যদি আমাদের দলীয় মনোনয়নে এমপি হতেন, তাহলে তিনি ওসমানদেরই বেশি পারপাস সাফ করতেন। আল্লাহ্’র কাছে শুকরিয়া যে, তিনি এ দোসরদের হাত থেকে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের মুক্ত করেছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নারায়ণগঞ্জ আপডেট