প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 27, 2025 ইং
নির্বাচনের আগেই আ.লীগের ডেভিল শিপনের গ্রেফতার দাবি

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ কর্মী হয়েও যেসকল ব্যক্তিরা এ শহরে বেশি দাপুট দেখাতেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন। এ শিপনরাই মূলত ওসমানদের প্রভূ বানিয়ে নিজেরা তাদের দাসত্ব করে চলতেন এবং সবাইকে তাদের মুরিদ করার চেষ্টা করতেন।
কেউ যদি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন তাদেরকে কোণঠাসা করে রাখতেন এবং সর্বশেষ তাদের পূজা পরিষদ সংগঠন থেকে বের করে দিতেন। এমন অভিযোগ আজ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা পরিষদের সাবেক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জবাসীর মুখে মুখে।
তারা বলছেন, সদ্য গ্রেফতার হওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল হোসেন আর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য শিখন সরকার শিপন ছিলেন মূলত মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার বিশস্ত কর্মী। তাদের দুজনকেই সব সময় একসাথে দেখা যেতো। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় শহরের কালীবাজারস্থ খোকন সাহার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তাদের আড্ডা বসতো। এখানে বসেই তারা গডফাদার শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের দেয়া নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য আলাপ-আলোচনা করতেন। শুধু তাই নয়, গডফাদার শামীম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে পাগলা মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরের টাকা আত্মসাৎ ও লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসবের চাউল চুরি এবং প্রতীমা ভাংচুরসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হন। এত অপকর্ম করা সত্বেও শামীম ওসমানের ভয়ে তখন কেউ কিছু বলতে পারেনি। শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে গভীর সখ্যতা থাকার কারণে সংগঠনের প্রায় সকলের সাথেই র্দুব্যবহার ও দাম্ভিকতা দেখাতো শিপন। তবুও সাহস করে যেসকল নেতৃবৃন্দরা তার প্রতিবাদ করতেন তাদেরকে কোণঠাসা করে রাখতো এবং কৌশলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংগঠন থেকে বের করে দিতেন। এভাবে দিনের পর দিন তিনি পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সাধারণ মানুষের সাথে অন্যায় অবিচার করে গেছেন।
শুধু তাই নয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময়ও শিপনরা এ অভ্যুত্থানের চরম বিরোধীতা করেছিলেন। জুলাইয়ে ছাত্রদের যৌক্তিক এ আন্দোলনের বিরুদ্ধে বক্তব্যও রেখেছেন তারা। কিন্তু তারা সেদিন ছাত্রদের দাবিয়ে রাখতে পারেন নি। পরবর্তিতে গণ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এদিকে সরকার পতন হওয়ার পর পরই আত্মগোপনে চলে যায় শিপনের বস্ খোকন সাহা ও প্রভূ শামীম ওসমানরা। আগস্ট পরবর্তি সময়ে শিপনসহ তাদের প্রভূদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধীক মামলা হয়। কিন্তু তবুও কোন এক রহস্যজনক কারণে অনেকটা প্রকাশ্যেই থেকে যান শিপন।
৫ আগস্টের পর শিপন বাঁচার জন্য বিএনপি নেতাদের পিছনে তোড়জোড় শুরু করেন। তাদের অনুকম্পা পেতে পূজা পরিষদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদেরকে অতিথি করে আনেন শিপন। সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতারা তাকে অভয় দেন যে, তাদের পাশে বিএনপি নেতারা আছে এবং থাকবে। সেই থেকেই ছাত্র-জনতা হত্যার আসামী হয়েও শিপন পূর্বের মতই অনেকটা বীরদর্পে জীবন যাপন করছেন।
সম্প্রতি সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও চলছে পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২।’ এ অভিযানে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের ছোট বড় অনেক ডেভিলরা গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে শিপনের বন্ধুবর সহকর্মী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল হোসেনও। তবে তার গ্রেফতারের পরও এখনও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে শিপন। তাই দাবি উঠেছে, পুলিশের এ বিশেষ অভিযানেই শিপনের মত প্রকাশ্যে থাকা অন্যান্য ডেভিলদেরও গ্রেফতার করার।
বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতাকর্মী ও নারায়ণগঞ্জবাসী বলছে, শিপনদের সাথে এখনও গডফাদারদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা নারায়ণগঞ্জের সমস্ত খবরাখবর গডফাদারদের কাছে পাচার করছে। তাকে গ্রেফতার করে তার মোবাইল সিস করলেই এ বিষয়ে সকল তথ্য পুলিশ প্রশাসন জানতে পারবে। তারা বর্তমানে শুধু নারায়ণগঞ্জবাসীই নয়, গোটা দেশের জন্যও ক্ষতিকর। তারা প্রকাশ্যে থাকলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকে। কারণ, তারা আওয়ামী লীগের দোসর, তারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই জনজীবনের স্বার্থে শিপনদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান নারায়ণগঞ্জবাসী
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নারায়ণগঞ্জ আপডেট