শহরের হকারদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) নগরভবনের অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনভুক্ত রাস্তা ও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় হকারদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ঈদের আগ পর্যন্ত জনগণের চলাচলের রাস্তা রেখে একপাশে আপনারা বসবেন। কিন্তু ঈদের পর ২০ দিন আপনারা বসতে পারবে না। কারণ, ফুটপাতে টাইলস বসানোর কাজ চলবে। এ ক’টা দিন আপনারা ঈদের ছুটি কাটাবেন।
তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে সড়কে কোন প্রকার হকার বসতে পারবে না। যদি মূলক সড়ক দখল করে কোন হকার বসে, তাহলে সকল হকারদেরই উচ্ছেদ করা হবে। তাই কেউ যাতে সড়ক দখল করে না বসে, সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। আর ফুটপাতে কোন প্রকার চোকি কিংবা গাড়ী নিয়ে বসা যাবে না। ২ ফিট ৩ফিট জায়গার মধ্যে নিচে পলিথিং দিয়ে কাপড় বিছিয়ে বসবেন। আর আপনাদের ময়লা আর্বজনা একটি বেগে রেখে নির্ধারিত স্থানে ফেলবেন। শহরকে নোংরা করা যাবে না।
সাখাওয়াত বলেন, ঈদের বিশ দিন আবারও আমরা আপনাদের সাথে বসবো। আপনারা প্রকৃত হকারদের তালিকা তৈরি করুন। পুরান তালিকা চলবে না। নতুন করে এবং সিটি কর্পোরেশনের যারা বাসিন্দা সেই সব হকারদেরই পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। সেই তালিকার সাথে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দিবেন। সেই তালিকা আমরা যাচাই বাছাই করে দেখবো। যদি কোথাও কোন অনিয়ম পাওয়া যায়, সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে হকাররা তাদের মতামত তুলে ধরে বলেন, হকাররা এ দোকানদারি করে তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চালায়। ইচ্ছে করলে তারা ছিনতাইকারি হতে পারতো, তারা দুস্কৃতিকারি হতে পারতো। কিন্তু তারা এসব না করে সৎপথে কষ্ট করে রোজগার করে সংসার চালায়।
তারা বলেন, আমরা যেহেতু হকার। আমরা রিজিকের জন্যই রাস্তায় বসি। তাই আমাদের হকারদের যে পুরানো তালিকাটা আছে, নিয়ম মেনে এক লাইনে যাতে হকাররা বসে ব্যবসা করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি।
হকাররা আরও বলেন, আমরা একেক জনে ত্রিশ-বত্রিশ বছর ধরে হকারি করি। এটা করেই আমাদের সংসার চলে। তাই আমরা যারা প্রকৃত হকার আছি, উচ্ছেদের পূর্বে তাদেরকে যেন পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হয় মাননীয় প্রশাসকের কাছে এ আবেদনও রাখছি।
তারা অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর যারা দুই লাইন-তিন লাইন করে সড়ক দখল করে বসছে, তারা অনেকেই সুবিধাভোগী। কেউ দখল করে দোকান ভাড়া দিয়ে দিছে। অর্জিনাল যারা হকার তারা সবসময়ই নির্যাতিত। তাই পুর্নবাসনের আগ পর্যন্ত যাতে হকারদের উচ্ছেদ না করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: আজগর হোসেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খান, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, মহিলা দল নেত্রী দিলারা মাসুদ ময়না প্রমূখ।
.