বিশেষ সংবাদদাতা: রাজনীতিতে বংশমর্যাদা থাকাটা যেমন গর্বের, সেই সম্মান ধরে রেখে নিজের পথ তৈরি করাটা ততটাই চ্যালেঞ্জের। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এমনই এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের মশাল হাতে ধাবমান রয়েছেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সুযোগ্য পুত্র তিনি; যার শেকড় প্রোথিত রয়েছে এ অঞ্চলের রাজনীতির কিংবদন্তি পুরুষ হাজী জালাল উদ্দিন আহমেদের (জালাল হাজী) আদর্শে।
ঐতিহ্যের শেকড় ও জালাল হাজীর কীর্তি
আবুল কাউসার আশার দাদা হাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক এই সাংসদ কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, ছিলেন সমাজ সংস্কারক। নারায়ণগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, গণবিদ্যা নিকেতন ও কদম রসুলস্থ হাজী সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়সহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও জিয়া হলের নেপথ্যের কারিগর হিসেবে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। জিয়াউর রহমান তাঁকে পরিবারের সদস্য মনে করতেন, আর জালাল হাজীও জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করেছেন।
পিতার আদর্শ: পরিচ্ছন্ন রাজনীতির রূপকার অ্যাডভোকেট আবুল কালাম
আশার পিতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এক বিরল ব্যক্তিত্ব। কট্টর সমালোচকের কাছেও তিনি ছিলেন একজন ‘ক্লিনম্যান’ বা সজ্জন ব্যক্তি। সাবেক সাংসদপুত্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি পিতার প্রভাব বলয়ে না থেকে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সততা ও একনিষ্ঠতা থাকলে জনগণের হৃদয়ে স্থান পাওয়া সম্ভব। তিনি বিলাসিতার পথ ত্যাগ করে আজীবন লড়েছেন পিতার আদর্শ ও বিএনপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে।
ঐতিহ্যের ধারক যখন নিজেই উজ্জ্বল
পিতা ও দাদার সেই সংগ্রামী চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করেই রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছেন আবুল কাউসার আশা। বংশীয় পরিচিতির বাইরেও তিনি নিজের কর্মদক্ষতায় এক স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এছাড়াও তিনি মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তার পিতা এমপি আবুল কালাম তার ছেলে আশাকে সচিব হিসেবেও নিয়োগ দেন। পরিবারের এমপি ও আইনজীবী পরিচয়ের সঙ্গে নিজের নামের পাশে ‘জনপ্রতিনিধি’র তকমা যুক্ত করে তিনি সফলতার প্রাথমিক ধাপগুলো অতিক্রম করেছেন।
লক্ষ্য যখন জনসেবা ও সমৃদ্ধি
আবুল কাউসার আশা কেবল বর্তমান প্রাপ্তিতে তুষ্ট নন, তাঁর লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী। সব ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে অবিচল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
"আমার দাদা ও বাবা তাদের কর্মগুণে এবং পরিশ্রমে সম্মানিত হয়েছেন। আমি কখনোই বংশীয় মর্যাদার প্রভাব খাটিয়ে পথ চলতে চাইনি। আমার লক্ষ্য—নিজস্ব কর্মদক্ষতায় বড় হওয়া এবং পূর্বসূরিরা যে সম্মান অর্জন করেছেন, তা সমুন্নত রাখা। আমার দাদা এমপি ছিলেন,আমার পিতা একাধিকবার এমপি ছিলেন। বর্তমানেও জনগনের অকুন্ঠ ভালবাসায় আমার বাবাকে মানুষ এমপি বানিয়েছে। সামনে অনেক বাধা আসতে পারে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ সকল প্রতিকূলতা জয় করে আমি আমার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাব।"
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবুল কাউসার আশা কেবল একটি পরিবারের উত্তরসূরি নন, বরং তিনি একটি রাজনৈতিক আদর্শের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। পূর্বসূরিদের সততা আর নিজের তারুণ্যের উদ্দীপনাকে পুঁজি করে তিনি কতদূর এগিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।