ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফতুল্লায় ঝুট নিয়ে সংঘর্ষ, শিশুসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 9, 2026 ইং
ফতুল্লায় ঝুট নিয়ে সংঘর্ষ, ছবির ক্যাপশন: ফতুল্লায় ঝুট নিয়ে সংঘর্ষ,
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে অন্তত এক ঘন্টা ধরে চলে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, স্থানীয় যুবদলের দুʼটি পক্ষ এ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

"একটি পক্ষ গত ১৮ মাস ধরে একটি কারখানার ঝুট নামাচ্ছিল। প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত তথ্য আমাদের কাছে আছে।”

আহতরা হলেন- এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক নেতা মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩), বিএনপির কর্মী রফিক (৪০) ও স্থানীয় বাসিন্দা আসমাউল হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (১৩)।

ইমরান মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।

দুপুর দুইটার দিকে শিশুটির বড় বোন ইশা মনি হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে বলেন, “বাড়ির পাশে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে ইমরানের পেটের বা পাশে গুলি লাগছে। অনেক রক্ত বের হইছে। তারে ওটিতে নেওয়া হয়েছে। ডাক্তার বলছে, ৮ ব্যাগ রক্ত লাগবে।”

অপর দুʼজন আহত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহরপাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকার বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেডের ঝুট নামাতেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা। এ নিয়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী অন্তত তিনজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উভয়পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ফতুল্লা থানা যুবদলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষের খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

খবর পেয়ে সকাল সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান।

মাসুদুর রহমানের পক্ষের বিএনপি নেতা মো. হোসেন খোকা সাংবাদিকদের বলেন, মশিউর রহমান রনির অনুসারী এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব খাইরুল আলম জসিম ও যুবদল কর্মী অভিসহ লোকজন কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে রাখে। অপর যুবদল নেতা মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা সেখানে পৌঁছালে হামলা চালানো হয় বলে দাবি তার।

“আমার উপরে হামলা চালানো হয়। আমারে বাঁচাতে গেলে আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়”, যোগ করেন তিনি।

তবে, এ বিষয় জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির মুঠোফোনে বলেন, “কারখানাটি থেকে আজ ঝুট নামার কথা ছিল। কারখানাটি থেকে যারা বৈধভাবে ঝুট নামাচ্ছিলেন, তাদের উপর হামলা চালানো হয়। তবে ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, পুরোটা ব্যবসায়িক। আর এতে আমি কোনোভাবে জড়িত নই, আমি ঘুম থেকে উঠে ঘটনাটি জেনেছি।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, “কোন পক্ষ গুলি চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : নারায়ণগঞ্জ আপডেট

কমেন্ট বক্স