বিশেষ প্রতিবেদক: ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় সঠিক তদন্ত চান স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা এ জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগীতাও করতে চান। স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়া এক মাদরাসার ছাত্রের অবস্থা খুবই গুরুত্বর।
শিশুটি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ গুলি আমাদের কিংবা আমাদের সন্তানদের বুকে এসেও লাগতে পারতো। সামান্য ঝুট নিয়ে এ ধরনের রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা এ সংঘর্ষের সাথে যারা জড়িত এবং বিশেষ করে ওই অস্ত্রধারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তারা বলেন, আমরা দেখছি ওই ঘটনার চার দিন পেড়িয়ে গেলেও পুলিশের তদন্তে তেমন কোন গতি নেই। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত গতিতে তদন্ত করে ওই অস্ত্রধারিদের খুঁজে বের করুক।
আমরা আশা করছি, তারা কোন ব্যক্তি বা নেতা দ্বারা প্রবাহিত হবেন না। তারা অবশ্যই নিরপেক্ষ থেকে সঠিক তদন্ত করবেন এবং এ ঘটনাকে পুঁজি করে কোন নিরিহ ব্যক্তিকে হয়রানি করবেন না। আমরা তাদের উপর এ আস্থাটুকু রাখতে চাই।
সেদিনের ঘটনা তুলে ধরে স্থানীয়রা আরও বলেন, সেদিন একটি গ্রুপ ঘটনাস্থলেই ছিলো। অপর আরেকটি গ্রুপ আসামাত্রই তাদেরকে টার্গেট করে এলোপাথারি গুলি ছোড়া হয় এবং বেশ কয়েকটি ককটেলও ফুটানো হয়। তাদের ছোড়া এলোপাথারি গুলিতে এক মাদরাসার ছাত্রসহ প্রায় তিনজনের মত গুলিবিদ্ধ হয়। এসমস্ত ঘটনা বিভিন্ন সিসি ফুটেজে রেকর্ড আছে। যদি আমাদের কথা বিশ্বাস না হয় তাহলে যেদিনের ঘটনার সিসি ফুটেজ দেখলেই চলে।
যেখানে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে সেখানকার সিসি টিভি ফুটেজ দেখলেই মূল ঘটনার সূত্রপাত এবং কারা কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত কিংবা কাদের হাতে সেদিন আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো তা সহজেই বেড়িয়ে আসবে। তাই সেইদিনের সেই সিসি ফুটেজ কালেক্ট করে তদন্ত করার জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানের অনুসারী থানা বিএনপি ও কৃষকদলের নেতাকর্মীরা ‘ঘটনাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি হচ্ছে’ উল্লেখ করে বলেন, আসলেই মনে বড় কষ্ট লাগে যখন দেখি কতিপয় নেতারা এ ঘটনাকে নিয়েও রাজনীতি করছেন।
তাদের বুঝা উচিৎ, এ ঘটনায় এক নিরিহ শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। একটি গ্রুপ অপর একটি গ্রুপের উপর সশস্ত্র হামলা চালালেও তবুও তারা এ ঘটনাকে গোলাগুলির ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এটা সত্যিই ঘৃণিত কাজ।
তারা দাবি করেন, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির লোকজনই ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানের অনুসারিদের উপর অর্তকিত হামলা চালিয়েছে। তাদের লক্ষ্য করে এলাপাথারি গুলি চালিয়েছে। সেই গুলিতেই মাদরাসার শিশুটি রক্তাক্ত আহত হয়েছে। অপরদিকে যুবদল নেতা মাসুদুর রহমানের অনুসারীদের হাতেতো কোন ধরনের অস্ত্রই ছিলো না। এটাতো সবাই দেখেছে। এটাতো লুকানোর মত কোন বিষয় না।
বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে রনির অনুসারী জসিম ও অভিরা ওই গার্মেন্টস থেকে মাল (ঝুট) নামাচ্ছে। আমরা জেনেছি, ওইদিন রনির নির্দেশেই মাসুদুর রহমানের অনুসারীদের ডাকা হয়েছিলো যে, সবাই যেহেতু বিএনপির জন্য কমবেশি অবদান রেখেছে তাই সবাই মিলেমিশে ঝুট বিক্রির লভাংশ ভাগযোগ করে নেবে।
কিন্তু যখনই মাসুদুর রহমানের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে গেলো কিছু বুঝে উঠার আগেই রনির অনুসারীরা ককটেল-টকটেল ফুটিয়ে গুলি করা শুরু করে।
এসময়তো মাসুদুর রহমানের অনুসারীদের জান বাঁচানই ফরজ হয়ে গিয়েছিলো। তারা দৌঁড়ে পালালে কয়েকজনকে ধরে বেধর পিটিয়ে আহত করে রনির অনুসারীরা। অথচ, বলা হচ্ছে মাসুদুর রহমানের অনুসারীরাও নাকি গুলি করেছে! এটা নাকি গোলাগুলির ঘটনা? সত্যিই অবাক লাগে, কি করে এটা গোলাগুলির ঘটনা হলো? যেহেতু একটি গ্রুপের হাতে কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ছিলোই না, তাহলে কি করে এটা গোলাগুলির ঘটনা হয়? এটাতো হবে, পরিকল্পিত হামলার ঘটনা।
আর এ জন্যতো মূল পরিকল্পনাকারি রনি ও তার অনুসারীদের শাস্তি হওয়া উচিৎ। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানকে বহিস্কার করা হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক।
তারা আরও বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের বলবো মাসুদুর রহমান ফতুল্লা থানা যুবদলের প্রাণ। তিনি বিএনপির একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। বিএনপির ক্ষমতায় আসার পিছনে তার অবদান অনিস্বীকার্য। তাই তার বহিস্কারাদেশ দেওয়ার আগে একটু নিরপেক্ষ তদন্ত করে নিলে ভালো হতো। আমরা তাদের কাছে অনুরোধ করবে, তার বহিস্কারাদেশ বিষয়টি পুর্নবিবেচনা করার জন্য। কারণ, একজন নিরাপরাধ ব্যক্তি শাস্তি পাক এটা আমরা কোনদিনও চাই না।
তবে এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা বলেন, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ওই কারখানা থেকে ঝুট নামাচ্ছিলেন। হঠাৎ কিছু বুঝে উঠার আগেই অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায় মাসুদুর রহমানের অনুসারীরা। তারা মূলত বিএনপির নাম বিক্রি করে চলে। মাসুদুর রহমানকে বহিস্কার করে দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করবো, পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ওই হামলাকারিদের গ্রেফতার করবে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেডের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজন মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ তিন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব খাইরুল আলম জসিম ও যুবদল কর্মী অভিদের সাথে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানের অনুসারীদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানাগেছে।
নারায়ণগঞ্জ আপডেট