ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় হাফডজন নেতা, কি করবে বিএনপি?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 11, 2025 ইং
-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় হাফডজন নেতা ছবির ক্যাপশন: -৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় হাফডজন নেতা
নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনেই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে দেশের অন্যতম বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি। এখনও দলীয় প্রার্থী ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা)। 

ফলে এ আসনটি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সমস্ত আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিনত হয়েছে। কে পেতে যাচ্ছেন তারেক রহমানের ‘গ্রীণ সিগন্যাল’-এমন আলোচনায় এখন বেশিরভাগ সময় মুখরিত হয়ে উঠে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন আড্ডায়।

জানাগেছে, এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে প্রায় হাফ ডজন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম।

এছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। তারা সবাই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বেশ সরব। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করাসহ নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, এ আসনে যারাই প্রার্থী হয়েছেন তারা সবাই সমান জনপ্রিয় ব্যক্তি। তাদের সবারই রয়েছে আলাদা আলাদা ইমেজ। গ্রহণযোগ্যতার দিক দিয়েও কেউ কারো থেকে কম নয়। দলের জন্য তাদের সবারই কম-বেশি অবদান রয়েছে।

কেউ বার বার কারানির্যাতিত হয়েছেন, আবার কেউবা পুলিশের গুলিতে চোঁখ হারাতে বসছিলেন, আমাদের যুবদল নেতাকেতো গুম করারও চেষ্টা করা হয়েছিলো। সুতরাং কাউকেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। যার যার অবস্থান থেকে সবাই ত্যাগী নেতা। এখন দল এখান থেকে কাকে বেছে নেয়, এটাই এখন দেখার বিষয়।

তবে এখান থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন, আমাদের মনে হয় এতে কারো কোন আপত্তি থাকবে না।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, নারায়ণঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি নেতাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই অপ্রতুল। কারণ, এ আসনে জোট থেকেই প্রার্থী ঘোষণা প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে দলটির।

বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে যেসব শরীকদলগুলো তাদের পাশে ছিলো, তাদের মধ্য থেকে কোন একটি দলের জন্য প্রার্থী ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। সেক্ষেত্রে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাথে জোট থাকায় মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর বিএনপির নমিনেশন পাওয়ার বিরাট একটা সুযোগ দেখা যাচ্ছে।

অন্তত জোটগত দিক বিবেচনায় তিনি এ আসনে সুযোগ পেলে পেতেও পারেন।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এবারের নির্বাচনটা বিএনপির জন্য সত্যিই খুব চেলেঞ্জের বিষয়। সেই চেলেঞ্জ মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি বেশ সর্তকতা অবলম্বন করছে। 

তাই এ সময়ে বিএনপি থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন, তাকেই মেনে নেয়া উচিৎ দলটির নেতাকর্মীদের। এখানে মনোনয়ন নিয়ে বিদ্রোহ কিংবা বিক্ষোভ করে সময় নষ্ট করলে বিএনপিরই ক্ষতি হবে। যদিও আমরা দেখতে পাচ্ছি, নারায়ণগঞ্জের প্রায় সবকটি আসনেই মনোনয়ন নিয়ে বিদ্রোহ চলছে। 

আসলে এটা ঠিক না। দলকে এ অবস্থায় বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা কোন আদর্শীক নেতাকর্মীদের কাজ না। এখন দলকে ক্ষমতায় নেয়ার জন্য সবারই ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে সহযোগীতা করা দরকার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নারায়ণগঞ্জ আপডেট

কমেন্ট বক্স