বিশেষ প্রতিবেদক: মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুখ খান টিপুর ফেসবুকে দেয়া এক পোস্ট নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি ফেসবুকে ওই পোস্টটি দেন।
ফেসবুকের ওই পোস্টটিতে টিপু লিখেছেন, ‘ইনসাফের মায়ের মৃত্যু হয়েছে! যেখানে ইনসাফ নেই, সেখানে বলার কিছুই থাকে না। যে কোন স্থানে একজনই সব কিছু বার বার পাবে, আর অন্যরা আঙ্গুল চুষবে। মেয়র প্রার্থী দেওয়া হয়েছিলো, এমপি প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও তা ভুল হবে না! ত্যাগ ও যোগ্যতা একজনেরই, বাকী সব কুলুর বলদ। গাধার মত খাটবে একজন, আর ফলাফল দেওয়া হবে আরেকজনকে।’
এ পোস্টে তিনি কারোর নাম না বললেও এটা স্পষ্টভাবেই বুঝাযাচ্ছে যে, এ পোস্টটি তিনি বিএনপি থেকে সদ্য মনোনয়ন পাওয়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে উদ্দেশ্য করেই লিখেছিলেন। কারণ, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতকে এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো। এবং এবারও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
অথচ, টিপু নিজের মুখে একাধীকবার বলেছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতের মত ত্যাগী নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দিলে তিনিসহ সকল নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে। এর বাইরে যদি কোন বসন্তের কোকিলদের মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে তা কেউ মেনে নিবে না।
কিন্তু আজ যখন সাখাওয়াতকে সত্যি সত্যিই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলো, তিনি কিন্তু অনেকটাই দূরে চলে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, রীতিমত সাখাওয়াতের বিরোধীতা করাও শুরু করছেন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি তার ফেসুবকে ওই পোস্টটি দেন।
এদিকে টিপুর দেয়া এ পোস্টটি নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গণে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘আসলে টিপুর এটাই মূল চরিত্র। তিনি কখন যে কারা হয়ে যান, এটাই বলা মুসকিল। কারণ, পাঁচ আগস্টের পর মডেল মাসুদকে নিয়ে যদি কেউ সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করে থাকেন, তাহলে সেটা হলো টিপু। মাসুদকে যাতে কোন অবস্থাতেই দলীয় মনোনয়ন না দেওয়া হয় সেজন্য তিনি বার বার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মাসুদ বিএনপির কেউ না। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর, তিনি ওসমানদের দোসর। ওসমানদের নির্দেশেই মাসুদ মাঠে নেমেছে।’
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, ‘টিপু বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধীকবার বলেছিলেন, দলীয় মনোনয়ন দিলে ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে দিতে হবে। কারণ, তারা দীর্ঘ ষোলটি বছর ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে থেকে নানা হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। দলের জন্য তারা বহু ত্যাগ শিকার করেছেন। তাই ত্যাগীরাই মনোনয়ন পাওয়া যোগ্য।
কিন্তু সবশেষ কি দেখা গেলো? মাসুদের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলা সেই টিপুই ত্যাগীদের বলয় ভেঙ্গে সেই মাসুদের কাছেই চলে গেলেন। শুধু তাই নয়, মাসুদের পক্ষে নির্বাচনী জনসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দিলেন মাসুদের পক্ষে কাজ করার জন্য। সম্প্রতি মাসুদ নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়ার কথা বললে তিনি তাকে নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসার আহ্বান জানান। এবং সবশেষ মাসুদ ফের নির্বাচনী মাঠে ফিরেও আসেন। কিন্তু তার পরদিনই দল এ আসনে মনোনয়ন দেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতকে। কিন্তু এখন আবার সাখাওয়াতকে নিয়েও টিপু উল্টাপাল্টা পোস্ট দেওয়া শুরু করেছেন। এ থেকেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, টিপুর আসল কোন চরিত্র নাই। টিপু গিরগিটির মতই প্রতিনিয়ত রং বদলায় এবং রং বদলানোর সাথে সাথে তিনি নেতাও বদল করেন। আজ এ নেতার সাথে তো কাল আবার দেখা যাবে অন্যনেতার সাথে।’
টিপুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, আসলে এসব করে টিপু দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে অনেকটা হালকা হয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে তার উপর বহু নেতাকর্মীরাও আস্থা হারাচ্ছেন। কারণ, মহানগর বিএনপির অন্যতম একজন শীর্ষ নেতার চরিত্র যদি এমন হয়, তার উপর কিভাবে নেতাকর্মীরা আস্থা রাখবে। এসব করতে করতে একটা সময় দেখা যাবে, টিপু খুব একা হয়ে গেছে। সুতরাং টিপুর প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে সময় থাকতে থাকতে তিনি যেন একটু শুধরানোর চেষ্টা করেন। নয়তো, তার ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো দেখা যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ আপডেট