ঢাকা | বঙ্গাব্দ

না.গঞ্জে বিভিন্ন দলে মিশে যাচ্ছে আওয়ামী দোসর সাবধান না হলেই ক্ষতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 11, 2025 ইং
না.গঞ্জে বিভিন্ন দলে মিশে যাচ্ছে আওয়ামী ছবির ক্যাপশন: না.গঞ্জে বিভিন্ন দলে মিশে যাচ্ছে আওয়ামী
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে এমন কোন দলের নেতাকর্মী পাওয়া যাবেনা, যাদের সাথে আওয়ামী লীগের দুই চার ১০ জন সমর্থক কিংবা দোসর নাই। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সমর্থক একটু বেশিই দাপুট দেখাতেন, মূলত তারাই গোলসপাল্টে মিশে যাচ্ছে বিভিন্ন দলে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিটিং মিছিলে প্রায় ওই সমস্ত আওয়ামী দোসরদের দেখা মিলে। যা পরবর্তিতে পত্রিকার পাতায়ও ছাপা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় অপরাধের পরও কিভাবে আওয়ামী লীগের দোসররা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে জায়গা করে নিচ্ছেন?

বিভিন্ন সূত্রমতে জানাগেছে, পাঁচ আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও আত্মগোপনে চলে যায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পরবর্তিতে ধীরে ধীরে দলটির অনেক নেতাকর্মীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। কিন্তু যে সমস্ত নেতাকর্মী পালিয়ে যেতে পারেন নি তারা প্রথমে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ বিষয়ে দলটির হাইকমান্ডের কড়াকড়ি অবস্থানের কারণে কিছুটা সময় আওয়ামী লীগ দোসরদের সাথে তারা সখ্যতা গড়ে না তুললেও পরক্ষোভাবে তারা তাদের ছায়া দিয়ে রাখেন।

গণঅভ্যুত্থানের প্রায় ৬ মাস পর বৃহত্তর ওই দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রীণ সিগন্যাল পেয়ে বুঝে গর্তে থেকে বেড়িয়ে আসা শুরু করেন দোসররা। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের গোলসপাল্টে তারা বনে যান বিএনপি নেতা। ফলে বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামী হয়েও আওয়ামী দোসরা রয়ে যান বহাল তবিয়তে। তারা এখনও পূর্বের মতই বীরদর্পে তাদের সা¤্রাজ্য পরিচালনা করে যাচ্ছেন। পরিবহন, ঝুট ও তেলের ডিপো থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেক্টর গেলে আজও দেখা মিলে তাদের। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলেই বলে উঠেন, ‘আরে আমরাতো আগে থেকেই বিএনপি করি। ওসমানদের ভয়ে এতদিন চুপ ছিলাম।’ আবার কোন আওয়ামী দোসর, ‘আরে আমি আগে ছাত্রদলের এই পদে ছিলাম, বিএনপির ওই পদে ছিলাম’ ইত্যাদি বলে শাক দিয়ে মাছ ডাকার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তিনিই ছিলেন আওয়ামী তথা ওসমান পরিবারের দোসর। এভাবে আওয়ামী লীগ দোসররা প্রায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সাথে মিশে যাচ্ছে। ফলে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ দোসররা। ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা দোসরদের নিয়ে নানা গর্জন দিলেও মূলত তাদেরকে দোসরদের লালন-পালন করতে দেখা যাচ্ছে। যা আগামী দিনের জন্য ভয়ংকর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, এভাবে মূলত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। যদি তারা আবারও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে তাহলে তারা সর্বপ্রথম বিএনপির ওপরই আঘাত হানবে। তারা মূলত বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে শুধু বিএনপিই বলবো না, আজকাল প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সাথেই আওয়ামী দোসরদের দেখা যাচ্ছে। যা দেশের সকল রাজনৈতিকদলগুলোর জন্যও ক্ষতিকর ও আতঙ্কের বিষয়। কারণ, আওয়ামী লীগ ছেড়ে দেওয়ার মত দল নয়। বর্তমানে তারা প্রতিশোধের আগুনে জ¦লছে এবং সুযোগ পেলে ভয়ংকর রূপে তারা তাদের প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়বে। আজ যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। কাল যখন তারা ভালো অবস্থানে চলে আসবে, তখন কিন্তু আপনাদের ঘাড়েই প্রথম ছোবলটা বসাবে। সুতরাং এখনও সময় আছে এ বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সাবধান হওয়া। নয়তো, ভবিষ্যতে এর কড়া মাসুল শুধু তাদেরকেই নয়, গোটা দেশবাসীকে পোহাতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নারায়ণগঞ্জ আপডেট

কমেন্ট বক্স