একটা সময় রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের যেসমস্ত আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপি-জামায়াতের ব্যাপক সমালোচনা করতেন। দাম্ভিকতা দেখিয়ে বলতেন, বিএনপি-জামায়াতের জন্য আমাদের মাত্র ৫ মিনিটই যথেষ্ট।
আমরা যদি মাঠে দাঁড়াই তাহলে ওই বিএনপি-জামায়াতরা পালানোর পথ খোঁজে পাবে না, আরও কত কি বক্তব্য দিয়ে তারা রাজনীতির মঞ্চে রীতিমত কাঁপন ধরাতেন। এসব নেতাদের দাপুটের কারণে তাদের সামনে দাঁড়াতেই পারতো না বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেই সমস্ত নেতাদের কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কে কোথায় আছেন, তাও জানে না অনেকে। এক সময়ের বড় বড় কথা বলা বাঘা বাঘা নেতারা আজ ইঁদুরের মত গর্তে গিয়ে লুকিয়ে আছেন। ফলে অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছরেও বাঘের মত গর্জনতো দূরের কথা তাদেরকে একটি কাশি দিতেও কেউ দেখছে না। এতেই বুঝাযায়, তারা দীর্ঘকাল নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ছলনা করে গেছেন।
মুখে বড় বড় কথা আর বক্তব্যে বাঘের মত গর্জন দিলেও দলের অন্তিম সময়ে তারা ইঁদুরের মত গর্তে গিয়ে লুকিয়ে পড়েছেন।
সূত্র মতে, ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সাথে আওয়ামী লীগের হাইপ্রোফাইলধারি বাঘা বাঘা নেতারাও পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে কে কোথায় পালিয়ে গেছেন, তা এখনও কেউ বলতে পারছেনা।
যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন বজ্যকন্ঠে আওয়াজ তোলা সেই সমস্ত নেতারা। এসমস্ত নেতাদের ফিরে আসার পথও অনেকটা বন্ধ। কেননা, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলি বর্ষণের অপরাধে এসমস্ত নেতা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধেও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ডজন ডজন মামলা হয়েছে।
ফিরে আসলে সেইসব মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আতঙ্কও রয়েছে তাদের। তাই অতসহজে তারা আর ফিরবেন না বলে জানাগেছে।
তথ্যানুসূত্রে, নারায়ণগঞ্জে প্রায় দুই ডজনেরও উপরে হাইপ্রোফাইলধারি আওয়ামী লীগ নেতা ছিলো। এদের মধ্যে ওসমান তথা জোহা পরিবারের সর্ব কনিষ্ট পুত্র সন্তান সাবেক সাংসদ একেএম শামীম ওসমান ও পৌর পিতা আলী আহাম্মদ চুনকার মেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ছাড়াও রয়েছেন জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, আনোয়ার হোসেন, বাবু চন্দন শীল, সাবেক পৌর প্রশাসক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান কালাম, রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা, কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ্ বাদল, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী, পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান ইঞ্জি. মাসুম, জিএম আরাফাত, শাহ্ নিজাম, জাকিরুল আলম হেলাল, কাউসার আহমেদ পলাশ, শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, নাজমুল আলম সজল, আলী আহাম্মদ রেজা উজ্জল, বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ রশীদ প্রমূখ।
এদিকে ৫ আগস্টের পর চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে যায় এসব নেতাদের সাম্রাজ্য। আগস্ট পরবর্তি সময়ে নিজ বাসা থেকে সাবেক মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান ইঞ্জি. মাসুমকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে অনেক অনেক হাইপ্রোফাইধারি নেতারা। এদের মধ্যে কারো কারো ভারত বা ভিন্নদেশে থাকার সংবাদ পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ আপডেট