নারায়ণগঞ্জ আপডেট: নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল হোসেন গ্রেফতার হলেও এখনও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে ওসমান পরিবারের অন্যতম দোসর আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন। শিপন মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির অন্যতম সদস্য।
তিনি ছিলেন ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সেলিম ওসমান, শামীম ওসমানদের হয়ে পূজা ম-পে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ভোট প্রার্থনা, আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশগ্রহণ কিংবা নানা কার্যক্রমে সক্রিয় থাকা ছিল তার নিয়মিত কাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো এসব কার্যক্রমের ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মুখ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি।
জানাগেছে, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেন সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করলে, শিখন সেই কমিটিতে জায়গা পান। ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ঘোষিত ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে কার্যকরী সদস্য পদে রাখা হয়। এর আগে বিলুপ্ত শহর আওয়ামী লীগের কমিটিতেও সভাপতি ও সেক্রেটারি পদে ছিলেন আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা। সেই কমিটিরও সহসভাপতি ছিলেন শিখন। সেই কমিটির মেয়াদ ছিল ৭ বছর।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নাটকীয়ভাবে তার অবস্থান পাল্টে যায়। আওয়ামী লীগের সক্রিয় মুখ থেকে তিনি বিএনপির নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন। এর পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শিখনকে ঘিরে শুরু হয় আলোচনা। আর এই নিয়ে শিপনকে সমর্থনকারী হিসেবে রয়েছে মহানগর বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
শুধু বিএনপির নেতাদের সান্নিধ্যই নয়, প্রশাসনিক অঙ্গনেও দেখা যায় শিখনের উপস্থিতি। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সভায় তাকে নিয়মিত দেখা যায়। কখনো বক্তব্য রাখতে, কখনো আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে তাকে। এভাবেই তিনি নিজের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বলতে গেলে অনেকটাই সফল হয়েছেন। কারণ, ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা হত্যার মামলা হলেও তিনি এখনও আছেন বহাল তবিয়তে।
এদিকে তাকে নিয়ে সনাতনী সমাজেও চলছে অনেকটাই অস্বস্তি। শুধু তাই নয়, বিএনপির ভেতরেও এ শিপনকে নিয়ে চলছে চরম ক্ষোভ। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, শিখন ছিলেন ওসমানদের দোসর এবং আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হলেও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সমর্থনে তিনি এখনও রয়েছেন ধরাছোয়ার বাইরে।
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, শিপনের অন্যতম শেল্টারদাতা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সম্প্রতি গ্রেফতার হলেও শিপন প্রকাশ্যে থাকার পর তাকে পুলিশ গ্রেফতার করছেন না। আমরা দ্রুত এ ওসমান দোসর আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতাকে গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য জেলা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারি বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ ডিসেম্বর গলাচিপা এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার হন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রবিউল হোসেন। সদর থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ আপডেট