ঢাকা | বঙ্গাব্দ

না.গঞ্জ-৫ আসনে শক্তিশালী অবস্থানে কালাম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 11, 2026 ইং
শক্তিশালী অবস্থানে কালাম ছবির ক্যাপশন: শক্তিশালী অবস্থানে কালাম
নারায়ণগঞ্জ আপডেট: সদরের আংশিক ও বন্দর উপজেলা মিলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। আসনটি শুরু থেকেই বিএনপির হাতে থাকলেও গত কয়েকবারের নির্বাচনে তা দখলে নেয় জাতীয় পার্টি। যদিও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নির্বাচনে ফেরা অসম্ভব। স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে খ্যাত জাতীয় পার্টিরও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাই এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় এ আসনটি দখল নিতে চাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি।

তবে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে প্রথমে মডেল গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে আসনটি পুনরোদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। কারণ, রাজনৈতিক মাঠে মাসুদ সেই রকম পাকাপোক্ত নয়। তাছাড়া দলের নেতাকর্মী বিশেষ করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা মাসুদের মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় মাসুদকে রাখা হলে এ আসনে বিএনপির ভরাডুবির সম্ভাবনা থাকবে।

হয়তো সেইসব দিক বিবেচনায় শেষ সময়ে দলের মনোনয়ন ঘুরিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় রাখা হয় এ আসনের সাবেক তিনবারের সাংসদ হেভিওয়েট নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে। আবুল কালামকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তৃণমূলের মধ্যে কোন ধরনের অসন্তোষ দেখা যায়নি। বরং তৃণমূল তাকে স্বানন্দে গ্রহণ করেছেন এবং তাকে সমর্থক দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তার পক্ষে কাজ করার জন্য তৃণমূল অনেকটা উঠে পড়ে লেগেছে। 

এদিকে যেসব মনোনয়ন বঞ্চিতরা মাসুদের মনোনয়ন ব্যাপারে নানা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাদেরকেও আবুল কালামকে সমর্থন দিতে দেখা গেছে। কালাম তার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মীদের এক বা ঐক্যবদ্ধ করতে সফল হয়েছেন। সুতরাং দলীয়ভাবে সব দিক থেকেই তাকে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে এ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল ইসলাম মামুনকে সমর্থন দিয়ে জামায়াত তার শক্তিশালী প্রার্থীকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের আবু নাঈম খান বিপ্লব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাসুম বিল্লাহ্, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মন্টু চন্দ্র ঘোষ, গণসংহতি আন্দোলনের তরিকুল ইসলাম সুজন ও মুক্তিজোটের প্রার্থী এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা। মাঠে থাকা এসকল প্রার্থীদের মধ্যে দুর্বল প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি। 

অপরদিকে যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে এ আসনের অন্যতম শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদসহ ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। ফলে এ আসনে কালামের বিরুদ্ধে তেমন কোন শক্তিশালী প্রার্থী নেই বললেই চলে।

তবু এ নির্বাচনকে সহজভাবে দেখছেন না কালাম। তিনি কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং তার এ কাজে সার্বিক সহযোগীতা করছেন তার পুত্র আবুল কাউসার আশা। আশা পিতার নির্বাচনকে অনেকটা চেলেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন বলে জানাগেছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি ইতোমধ্যে সকল মতপার্থক্য ভুলে সকল ইউনিট বিএনপিকে এক করার চেষ্টা করছেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি কোন না কোন ইউনিট বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মিটিংয়ে বসছেন। মতপার্থক্যের কারণগুলো আইডিন্টিফাই করে তার সমাধান করছেন। এভাবেই পিতার সারথি হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নারায়ণগঞ্জ আপডেট

কমেন্ট বক্স