নারায়ণগঞ্জ আপডেট: নিজের জন্মদিনের পুরোটা সময় জনসেবায় ব্যয় করেছেন মহানগর মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের একনিষ্ঠ কর্মী শ্রী ঋষিকেশ মন্ডল মিঠু।
নিজের জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার (১০ জানুয়ারি) গভীর রাতে ও বিকেলে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন তিনি।
জন্মদিনের প্রথম প্রহরেই তিনি ছিন্নমূলদের অস্থায়ী বসতিস্থল নগরীর রেলস্টেশন, বাসটার্মিনাল ও লঞ্চ টার্মিনালসহ বিভিন্ন ফুটপাতে ছুটে যান। গভীর রাতে ঘুমে আচ্ছন্ন ছিন্নমূল মানুষদের গায়ে ভালোবাসার কম্বল জড়িয়ে দিলে তাদের চোখে মুখে আনন্দের ঝলকানি ফোটে উঠে। পরে তাদেরকে বুকে জড়িয়ে নেন মিঠু। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে ছিন্নমূল মানুষেরা মিঠুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দোয়া করে বলেন, 'বাবা আল্লাহ্ তোমার হায়াত বাড়াইয়া দেউক। তোমারে সুস্থ রাখুক, দোয়া করি বাবা, দোয়া করি।'
এসময় মিঠু বলেন, শুধু আমার জন্য দোয়া করলে হবে না। আমার নেতা খান সাহেবের (জাকির খান) জন্যও দোয়া করতে হবে। তিনি যেন দীর্ঘজীবী হয় এবং তার স্বাস্থ্য যেন ভালো থাকে।'
পরে ছিন্নমূল মানুষেরা জাকির খানের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া করেন।
এদিকে কম্বল বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের মিঠু বলেন, আজ আমার জন্মদিন। চেষ্টা করি জীবনের প্রথম দিনটা যেন সেইসব মানুষদের পাশে থাকতে পারি, যাদের কোন ব্যাংক, ব্যালেন্স, বাড়ী-গাড়ীর স্বপ্ন নাই। শুধু দু'বেলা ভাত হলেই খুশি। সেইসব সহজ-সরল মানুষের মুখে হাসি ফোটানো একজন বিএনপির কর্মী ও জাকির খানের ছাত্র হিসেবে আমার কতর্ব্য। সেই আদর্শ বুকের মধ্যে যেদিন থেকে জন্ম নিয়েছে, ঠিক সেইদিন থেকেই চেষ্টা করি তাদের পাশে থাকার জন্য।
এক প্রশ্নের জবাবে বন্দরের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র গরীব দু:খী ও মেহনতি মানুষের প্রিয় নেতা ঋষিকেশ মন্ডল মিঠু আরও বলেন, ‘আসোলে ঠিক কবে থেকে সমাজের পিছিয়ে পড়া এসব মানুষের পাশে আছি, ভুলে গেছি। কারণ, তাদের সাথে আমার এতটাই ঘনঘন দেখা সাক্ষাৎ হয় যে, তারাতো রীতিমত আমার আত্মীয় হয়ে গেছেন। এখানকার অনেকই আমাকে চেনেন, নাম ধরে ডাকেন। যা আমার অনেক ভালো লাগে। এখানে আসলে মনে হয়, আমি আমার মার কাছে এসছি, আমার বাবার কাছে এসছি। যখন বয়স্ক কোন মহিলা আমার মাথায় হাত বুলায় মনে হয় আমার মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। যখন কোন বৃদ্ধ বাবা হাত বুলিয়ে দেয়, সেই একই রকম অনুভূতি হয়। মনে হয়, আমার বাবাই যেন তার স্নেহ্ মাথা হাত দিয়ে আমাকে আদর করছে।
এসব কথা বলতে বলতে কন্ঠে আদ্রর্তা আর চোখের কোণে জল নেমে আসলে পড়নের চাদরে মুখ লোকান তিনি। এসময় জেলা যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি পারভেজ মল্লিক মিঠুকে ইশারায় স্বাভাবিক হতে বললে তিনি মুখ মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করেন।
এরপর পারভেজ মল্লিক মিডিয়ার সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, আসোলে মিঠু ভাই একজন আবেগপ্রবণ লোকতো, তাই কথা বলতে যেয়ে তার চোখে পানি এসে গেছে। তবে ওনি যে কথাটি বলছে, সেটা কিন্তু শতভাগ সত্য। সমাজের পিছিয়ে মানুষগুলোর পাশে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অবশ্যই দাঁড়ানো উচিত। এটাও কিন্তু একটি দলীয় আদর্শ। তবে আমরা অনেকেই দলের সেই আদর্শ পালন করি না, যেটা মিঠু ভাই অব্যাহত রেখেছেন। আমি সত্যিই তার এ মহৎ কাছে সহযোগী হতে পেরে খুবই আনন্দিত। দোয়াকরি, তিনি যেন এ কাজটা অব্যাহত রাখতে পারেন। যদি তার কাজে সহযোগিতারও প্রয়োজন হয়, তাহলে জাতীয়তাবাদী দলের একজন নগন্য কর্মী হিসেবে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা আমার নেতা জাকির খানের স্নেহের ছোট ভাই হিসেবে আমি তা করবো। এটা আমি কথা দিযে গেলাম।
এসময় মহানগর মৎস্যজীবী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।