ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ছাত্র-জনতাকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী হয়েও এমপি প্রার্থী মাকসুদ! নানা প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 13, 2026 ইং
এমপি প্রার্থী মাকসুদ ছবির ক্যাপশন: এমপি প্রার্থী মাকসুদ
নারায়ণগঞ্জ আপডেট: অবশেষে নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন। নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ১২ জানুয়ারী তিনি প্রার্থীতা ফিরে পান।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মাকসুদ হোসেন ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। সেলিম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে তিনি মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে টানা তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেলিম ওসমানের অত্যান্ত ঘনিষ্ঠজন হলেও গোটা ওসমানপরিবারের সাথেই তার ছিলো উঠাবসা। আর এ প্রভাবেই তিনি এবং তার পুত্র শুভ মুছাপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব শুরু করে। গডফাদার শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে সংখ্যতার কারণে তিনি নিজেই একসময়ে শুধু মুছাপুরই নয় গোটা বন্দরের গডফাদারে পরিনত হন।

শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে তাদের ওপর হামলা ও হত্যার চেষ্টা করে মাকসুদরা। ওসমানদের নির্দেশেই বিশাল সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে তিনি সেদিন ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগে জানাগেছে। যারফলে দেশের পট পরিবর্তন হলে তার বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাসহ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় তার বিরুদ্ধে একাধীক মামলা হয়। এসব মামলায় বেশ কিছুদিন পলাতক থাকার পর গত ৪ মার্চ অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে গ্রেফতারও হন মাকসুদ। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেড়িয়ে এসে তিনি আবারও বন্দরে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলে জানাগেছে।

তবে যে বিষয়টি বন্দরবাসীসহ গোটা নারায়ণগঞ্জবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে তা হলো, একজন ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারি কিভাবে নতুন এ বাংলাদেশে, যে বাংলাদেশ ছাত্র-জনতার রক্তের ওপরদিয়ে নির্মিত হয়েছে সেই দেশে কিভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার সুযোগ পায়? এত বড় অপরাধ করার সত্বেও কি রহস্যের কারণে মাকসুদের মত দোসররা নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। 

কেউ কেউ বলছেন, যে অপরাধ মাকসুদ করেছে সেই একই অপরাধতো আওয়ামী লীগও করেছে। যদি এ অপরাধে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা যায়, তাহলে একই অপরাধে অপরাধী মাকসুদকে কেন নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা যাচ্ছে না? এক দেশেতো দুই আইন চলতে পারে না। মাকসুদরা নির্বাচন করলে ৫ আগস্টে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা রক্ত দিয়েছেন আর যারা পঙ্গুত্ব বরণ করে নিয়েছেন, তাদের সাথে বেঈমানি করা হবে। আমরা এটা হতে দিতে পারি না। আমরা চাই জুলাই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক। আর এ জন্য আমরা মাকসুদসহ যারা জুলাই অপরাধীর সাথে জড়িত, তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতারা বলছেন, একজন চিহ্নিত অপরাধীকে যদি নির্বাচন করার সুযোগ করে দেওয়া হয়, তাহলে সেই নির্বাচন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। আমরা চাই অতিদ্রুত ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত দোসর মাকসুদকে গ্রেফতার করা হোক। যদি মাকসুদকে গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নারায়ণগঞ্জ আপডেট

কমেন্ট বক্স