নারায়ণগঞ্জ আপডেট: প্রার্থীতা ফিরে পেলেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সাথে পেরে উঠতে পারবেন না স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন। কারণ, এ আসনে কালামের রয়েছে বিশাল জনসমর্থন। তাছাড়া কালাম একজন ক্লিনম্যান রাজনীতিবিদ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। ফলে বিএনপি ছাড়াও প্রায় সকল মহল ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছেই কালামের রয়েছে বিশাল গ্রহণযোগ্যতা। তারা বরাবরের মতই এবারও কালামের প্রতি আস্থা রাখবে বলে বিশ্বাস করেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।
মহলটি দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ মূলত বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে বেশ আলোচনায় রয়েছেন। কারণ, ওই নির্বাচনে তিনি সাবেক প্রভাবশালী দুই সাংসদের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেও জয়লাভ করেন। তবে ওই নির্বাচনে তার বিজয়ী হওয়ার পিছনে আরও একটি বড় কারণ ছিলো বলে জানিয়েছেন ওই মহলটি।
তাদের মতে, ওই নির্বাচনে বিএনপি থেকে কোন প্রার্থী দেওয়া হয়নি। বিএনপি ওই নির্বাচন বর্জন করেছিলো এবং সেই সাথে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও এ নির্বাচনের ভোট বয়কট করে। কিন্তু তবুও দলের বাইরে গিয়ে এবং সাবেক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টির সাংসদের সমর্থনে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে সাবেক বহিস্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুল। কারণ, তিনি ভেবেছিলেন সাবেক সাংসদরা তাকে সমর্থন করলেই তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবেন। কিন্তু দিন যতই যায় ততই কঠিন হয়ে উঠে নির্বাচনের সমীকরণ। অবশেষে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ভোট বয়কোট করার কারণে নির্বাচনে মুকুলের ভরাডুবি হয় এবং সেই সাথে নির্বাচনে সহজ জয়লাভ করেন মাকসুদ।
সচেতন মহল আরও বলছেন, ওই নির্বাচনে যদি বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ভোট দিতো কিংবা দল যদি মুকুলকে মনোনয়ন দিতো তাহলে কোনভাবেই মাকসুদ বিজয়ী হতে পারতো না। বরং ওই নির্বাচনে মাকসুদেরই ভরাডুবি হতো। সুতরাং এবারের যেহেতু বিএনপির প্রার্থী মাঠে রয়েছে, সেহেতু নির্বাচনটা মাকসুদের জন্য সহজ হবে না। বিজয়ী হওয়ার চাইতে এবার মাকসুদের ভরাডুবির শঙ্কাই বেশি। কারণ, কালাম শুধু বিএনপির ভোটই নয়, এর বাইরেও তার রয়েছে বিশাল একটা ভোট ব্যাংক। এ ভোট কখনও মিস হওয়ার কথা না। সবঠিক ঠাক থাকলে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে এবারের এ নির্বাচনে শুধু বিজয়ীই নয় বিপুল সংখ্যাঘরিষ্ঠতা অর্জনেরও সুযোগ রয়েছে অ্যাডভোকেট আবুল কালামের।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন তাকে কখনও দুর্বলভাবা উচিৎ নয়। বিজয়ী হবো, এ আশায় হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দিলে তার পরিনতি খুব একটা ভালো হয় না। ইতিহাস তাই বলে। তাই অ্যাডভোকেট কালামের উচিৎ কোন ক্ষেত্রে খাম-খেয়ালিপানা না করে শক্তহাতে নির্বাচনী মাঠ ধরে রাখা। সবচেয়ে বড় কথা, তাকে এ নির্বাচনটাকে একটা চেলেঞ্জ হিসেবে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। নয়তো, তিনি হোঁচট খেতে পারেন। সেই শঙ্কাও আমরা একেবারেই উঁড়িয়ে দিতে পারি না। কারণ, নির্বাচনী মাঠে মাকসুদ ছাড়াও আরও বেশ কিছু প্রার্থী পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে। শুধুমাত্র মাকসুদ ঠেকাতে গিয়ে অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতি উদাসীন হলেও রেজাল্ট খারাপ হওয়ার বিরাট একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং অ্যাডভোকেট কালামের প্রতি আমাদের উপদেশ থাকবে, শুধু মাকসুদকেই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিলে চলবে না, অন্যসব প্রার্থীকেই প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে নিতে হবে এবং সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে যেহেতু এ অঞ্চলে তার বিশাল গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সেক্ষেত্রে তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবণ। তবে সামান্য ভুলেই ফসকে যেতে পারে সেই বিজয়। সেক্ষেত্রে তার প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন করে চলা উচিৎ।